❏ হযরত আলী (رضي الله عنه) জানাযার পর দোয়া করতেন


ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী ইবনে আবু তালেব (رضي الله عنه) জানাযার পরেও দোয়া করেছেন। যেমন হাদিস শরীফে আছে, ইমাম বায়হাক্বী (رحمة الله عليه) বর্ণনা করেছেন,

أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرِ بْنُ قَتَادَةَ، أنبأ أَبُو عَمْرِو بْنُ نُجَيْدٍ، أنبأ أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ، عَنِ الْمُسْتَظِلِّ، أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ بَعْدَ مَا صُلِّيَ عَلَيْهَ 

-“হযরত মুস্তাজিল ইবনে হুছাইন (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, নিশ্চয় আলী (رضي الله عنه) এক জানাযার নামাজ আদায় করেন অত:পর আবার তার জন্যে প্রার্থনা করেন।”

(ইমাম বায়হাকী তাঁর সুনানে কুবরায়, ৪র্থ খন্ড, ২১৯ পৃঃ হাদিস নং ৬৯৯৬;) 


এ ব্যাপারে আরেকটি হাদিস লক্ষ্য করুন, ইমাম হিন্দী (رحمة الله عليه) উল্লেখ করেছেন,

عن علي قال دعاني رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا علي! إذا صليت على جنازة رجل فقل اللهم هذا عبدك وابن عبدك ابن أمتك ماض فيه حكمك، خلقته ولم يك شيئا مذكورا، نزل بك 

-“হযরত আলী (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, একদা আল্লাহর হাবীব (ﷺ) আমাকে ডাকলেন: হে আলী! তুমি যখন জানাযার নামাজ আদায় করবে, তারপরেই বলবে: “আল্লাহুম্মা আব্দিকা ইবনু আব্দিকা ইবনু উম্মাতিকা মাদ্বা ফিহী....।”(ইমাম হিন্দী: কানজুল উম্মাল, ৮ম খন্ড, ১১৪ পৃঃ হাদিস নং ৪২৮৬৪;) 


এই হাদিসও প্রমাণ করে, জানাযার পরে দোয়া করা স্বয়ং রাসূলে পাক (ﷺ)’র শিক্ষা। পাশাপাশি সাহাবায়ে কেরাম এরূপ জানাযার পরে দোয়া করেছেন। তাই জানাযার পর দোয়ার বিষয়ে অসুস্থ অন্তরের লোক ব্যতীত কেউ বাধা দিতে পারেনা। প্রিয় পাঠকবৃন্দ! কোন বিষয়ে আমল করার জন্য একটি দ্বায়িফ হাদিস কিংবা উলামায়ে কেরাম এর পছন্দই যথেষ্ঠ, কিন্তু কোন বিষয়ে নাজায়েয-হারাম বলার জন্য এর পিছনে অকাট্য দলিল প্রয়োজন। আর জানাযার নামাজের পরে দোয়ার বিষয়ে একাধিক হাদিস বিদ্যমান রয়েছে, কিন্তু এর বিপরীতে কোন দ্বায়িফ রেওয়ায়েতও নেই।


এই হাদিসদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত হয়, ইসলামের ৪র্থ খলিফা শেরে খোদা হযরত আলী (رضي الله عنه) জানাযার নামাজের পরে দোয়া করেছেন। হাদিস শরীফে উল্লেখ আছে,

حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ، عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ 

-“হযরত ইরবাজ ইবনে ছারিয়া (رضي الله عنه) বলেন, রাসূলে করিম (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের জন্য আমার ও আমার ৪ খলিফা সুন্নাত আদায় করা আবশ্যক।”

(ইমাম তাহাবী: শরহে মুশকিলুল আছার, হাদিস নং ১১৮৬; সুনানে আবী দাউদ, হাদিস নং ৪৬০৭; জামে তিরমিজি, হাদিস নং ২৬৭৬; ইমাম তাবারানী: মুজামুল আওছাত, হাদিস নং ৬৬; ইমাম বায়হাক্বী: মারেফাতুস সুনান ওয়াল আছার, হাদিস নং ৩২৭; সুনানে দারেমী, হাদিস নং ৯৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস নং ৩১৯; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১৭১৪৪; ইমাম বায়হাক্বী: সুনানে কুবরা, হাদিস নং ২০৩৩৮; শরহে মাআনিল আছার, হাদিস নং ৪৯৯; ইমাম আবু নুয়াইম: হিলিয়াতুল আউলিয়া, ৫ম খন্ড, ২২০ পৃঃ; ইমাম বায়হাক্বী: শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং ৭১০৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪২; মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ৪২০১; ইমাম তাবারানী: মুজামুল কবীর, হাদিস নং ৬১৭; সহীহ্ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৫; ইমাম তাবারানী: মুসনাদে শামেঈন, হাদিস নং ৪৩৭; ইমাম বাগভী: শরহে সুন্নাহ, হাদিস নং ১০২;) 

এই হাদিস সহীহ্, সুতরাং হযরত আলী (رضي الله عنه)’র সুন্নাত হিসেবে জানাযার পরে দোয়া করা জায়েয। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে ওহাবীরা ‘বায়হাক্বীর সুনানে কুবরার’ কোন কোন ছাপা থেকে এই হাদিসটি বাদ করে দিয়েছে। আল্লাহর ফজলে আমার কাছে বায়হাক্বীর সুনানে কুবরা কিতাবখানা সংরক্ষিত রয়েছে যার মধ্যে এই হাদিস খানা মওজুদ রয়েছে।

Top