❏ আব্দুর রহমান ইবনু আবী আওফ (رضي الله عنه) জানাযার পর দোয়া করতেন


বায়াতে রিদ্বওয়ানের অন্যতম সাহাবী হযরত আব্দুর রহমান ইবনু আবী আওফ (رضي الله عنه) স্বীয় কন্যার জানাযার পরেও দোয়া করেছেন। যেমন এ সম্পর্কে আরেকটি রেওয়ায়েতে আছে, ইমাম হাকেম, ইমাম আহমদ, ইমাম বাজ্জার, ইমাম আলী ইবনু জা’দ (رحمة الله عليه) বর্ণনা করেছেন,

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْهَجَرِيِّ قَالَ: رَأَيْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ وَمَاتَتِ ابْنَةٌ لَهُ، قَالَ ثُمَّ كَبَّرَ عَلَيْهَا أَرْبَعًا، ثُمَّ قَامَ بَعْدَ ذَلِكَ قَدْرَ مَا بَيْنَ التَّكْبِيرَتَيْنِ يَدْعُو وَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصْنَعُ عَلَى الْجَنَائِزِ هَكَذَا

-“হযরত ইব্রাহিম হাজারী (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, আমি হযরত ইবনে আবী আওফা (رضي الله عنه) কে দেখেছি যিনি বায়তুর রেদ্বওয়ানের সাহাবী ছিলেন। তাঁর এক কন্যার ইন্তেকাল হলে তিনি তার জানাযা ৪ তাকবীরে আদায় করেন। অত:পর দুই তাকবীরের মাঝখানে বিরতি সমপরিমান দাঁড়িয়ে দোয়া করেন। তিনি বললেন: নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মায়্যেতের জন্যে এরূপ দোয়া করতেন।”

(মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস নং ১৩৩০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১৯১৪০; মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ৩৩৫৫; মুসনাদে ইবনে জা’দ, হাদিস নং ৬২৬; ইমাম হিন্দী: কানজুল উম্মাল, ৮ম খন্ড, ১১৪ পৃঃ; কাজী শাওকানী: নাইলুল আওতার, হাদিস নং ১৪৩৪; আজিমাবাদী: আওনুল মা’বুদ শরহে আবু দাউদ, ৮ম খন্ড, ৩৫৮ পৃঃ; মুবারকপুরী: তুহফাতুল আহওয়াজী, ৪র্থ খন্ড, ৮৮ পৃঃ;) 


ইমাম হাকেম নিছাপুরী (رحمة الله عليه) বলেন:

 هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ 

“এই হাদিস সহীহ্।” 

এই হাদিসের সনদে

 إِبْرَاهِيْمُ بنُ مُسْلِمٍ الهَجَرِيُّ (ইব্রাহিম ইবনে মুসলীম হাজারী) নামক রাবী রয়েছে। ইমামদের অনেকে তার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করলেও অন্যান্য ইমামগণ তার উপর নির্ভর করেছেন। যেমন লক্ষ্য করুন:-

وقال الفسوي: لا بأس به -

“ইমাম ফাছুবী (رحمة الله عليه) বলেন: তার ব্যাপারে অসুবিধা নেই।”(ইমাম আসকালানী: তাহজিবুত তাহজিব, রাবী নং ২৯৬;)

 وقال يعقوب بن سفيان: لا بأس به. 

-“ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান (رحمة الله عليه) বলেন: তার ব্যাপারে অসুবিধা নেই।(ইমাম মুগলতাঈ: ইকমালু তাহজিবুল কামাল, রাবী নং ২৯৪;) 

عَن عَبد الله، وهو عندي ممن يكتب حديثه 

-“আব্দুল্লাহ (رحمة الله عليه) হতে বর্ণিত, সে আমার কাছে এমন ব্যক্তি যার হাদিস লিখা হয়।”(ইমাম মিযযী: তাহজিবুল কামাল, রাবী নং ২৪৮;) 

وقال ابن عدى: وهو عندى ممن يكتب حديثه. -“ইমাম ইবনে আদী (رحمة الله عليه) বলেছেন: সে আমার কাছে এমন ব্যক্তি যার হাদিস লিখা হয়।”(ইমাম আইনী: মাগানিল আখইয়ার, রাবী নং ২২;) 

ইমাম হাকেম (رحمة الله عليه) তার বর্ণিত হাদিসকে صَحِيحٌ সহীহ্ বলেছেন এবং বলেছেন:

 إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُسْلِمٍ الْهَجَرِيِّ لَيْسَ بِالْمَتْرُوكِ، 

-“ইব্রাহিম ইবনে মুসলীম হাজারী পরিত্যাজ্য নয়।”(মুস্তাদরাকে হাকেম, ১৪১২ নং হাদিসের ব্যাখ্যায়;) 


ইমাম যাহাবী (رحمة الله عليه) তার বর্ণিত হাদিসকে صَحِيحٌ সহীহ্ বলেছেন। দেখুন: মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস নং ১৩৩০।

এই হাদিস দ্বারা দুটি বিষয় প্রমাণিত হয় যে, একটি হচ্ছে স্বয়ং আল্লাহর হাবীব (ﷺ) নিজে জানাযার নামাজের পর দোয়া করেছেন এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে জান্নাতের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত সাহাবীগণও জানাযার পর দোয়া করেছেন।

Top