❏ দেওবন্দী আলিমগণের দৃষ্টিতে ফরজ নামাজের পর দোয়া
এবার আপনারা ভারতের দেওবন্দের আলিমগণের ফাতওয়া লক্ষ্য করুন।
যেমন বিখ্যাত দেওবন্দী আলিম, আল্লামা জাফর আহমদ উছমানী সাহেব তদীয় কিতাবে বলেছেন,
الحاصل ان ما جرى به العرف فى ديارنا من ان الامام يدعو فى دبر الصلاة مستقبلا للقبلة ليس ببدعة بل له اصل فى السنة
-“মুদ্দা কথা হল, আমাদের দেশে প্রচলিত ইমাম সাহেব প্রত্যেক ফরজ নামাজের কেবলামুখী হয়ে পরে দোয়া বিদয়াত নয়, বরং সুন্নাহ’র মধ্যে এর ভিত্তি রয়েছে।”(জাফর আহমদ: এ’লাউছ সুনান, ৩য় খন্ড, ২০৫ পৃঃ;)
তিনি আরো বলেন,
فثبت ان الدعاء مستحب بعد كل صلوة مكتوبة متصلا بها برفع اليدين كما هو شائع فى ديارنا وديار المسلمين
-“দুই হাত উচু করে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে দোয়া করা মুস্তাহাব প্রমাণিত, যেমনটি আমাদের দেশে ও মুসলীম সমাজে প্রচলিত আছে।”(জাফর আহমদ: এ’লাউছ সুনান, ৩য় খন্ড, ২১১-১২ পৃঃ;)
দেওবন্দের আরেকজন প্রখ্যাত আলিম, মাওলানা রশিদ আহমদ গাংগুহী বলেছেন,
وهذا ثبت الدعاء بعد الصلوة برفع يديه كما هة معمول وانكار الجهلة عليه مردود
-“আর নামাজের পরে হাত উঠিয়ে দোয়া করা প্রমাণিত আছে। মূর্খ ও মরদুদ লোকেরা ইহা অস্বীকার করে।”(রশিদ আহমদ: আল-কাউকাবুদ দুরারী বি’শরহে জামেউত তিরমিজি, ১ম খন্ড, ১৭১ পৃঃ;)
দেওবন্দীদের প্রখ্যাত আলিম, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী সাহেব তিনার কিতাবে বলেছেন, যা শায়খুল হাদিস মাওলানা শামছুল হক্ব ফরিদপুরী এভাবে অনুবাদ করেছেন,
“৬/ মাসআলা : সালাম ফিরান হইলে নামাজ শেষ হইয়া গেল। তারপর উভয় হাত মিলিতভাবে সিনা বরাবর উঠাইয়া আল্লাহর নিকট নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গলের জন্য দো’আ করিবে। ইমাম নিজের জন্য দো’আ করিবে এবং মুক্তাদীর জন্যও করিবে। মুক্তাদীগণ ইমামের সঙ্গে দুই হাত উঠাইয়া নিজ নিজ দো’আ পৃথক পৃথক করিতে থাকিবে। দো’আ শেষ হইলে উভয় হাত চেহারার উপর ফিরাইবে। -তাহতাবী পৃ: ১৮৪, ১৮৫।”(থানভী: বেহেশ্তী জেওর, প্রথম ভলিউম, ১২০ পৃঃ এমদাদিয়া লাইব্রেরী, চকবাজার, ঢাকা। প্রকাশকাল: জুলাই ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ।)
প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন, দেওবন্দী আলিমগণ কিভাবে ফরজ নামাজের পর দোয়া করার জন্য ফাতওয়া দিয়েছেন। অথচ বর্তমানে কিছু দেওবন্দী পাওয়া যায়, যারা ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া মানেনা। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, তারা দেওবন্দের মানহাজ থেকে দূরে সরে গেছে।
এমনকি কুখ্যাত লা-মাজহাবী মাওলানা আব্দুর রহমান মুবারকপুরীর বক্তব্য লক্ষ্য করুন,
وَاسْتَدَلُّوا أَيْضًا بِعُمُومِ أَحَادِيثِ رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الدُّعَاءِ قَالُوا إِنَّ الدُّعَاءَ بَعْدَ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ مُسْتَحَبٌّ مُرَغَّبٌ فِيهِ وَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدُّعَاءُ بَعْدَ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ وَأَنَّ رَفْعَ الْيَدَيْنِ مِنْ آدَابِ الدُّعَاءِ وَأَنَّهُ قَدْ ثَبَتَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَفْعُ الْيَدَيْنِ فِي كَثِيرٍ مِنَ الدُّعَاءِ
وَأَنَّهُ لَمْ يَثْبُتِ الْمَنْعُ عَنْ رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الدُّعَاءِ بَعْدَ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ بَلْ جَاءَ فِي ثُبُوتِهِ الْأَحَادِيثُ الضِّعَافُ قَالُوا فَبَعْدَ ثُبُوتِ هَذِهِ الْأُمُورِ الْأَرْبَعَةِ وَعَدَمِ ثُبُوتِ الْمَنْعِ لَا يَكُونُ رَفْعُ الْيَدَيْنِ فِي الدُّعَاءِ بَعْدَ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ بِدْعَةً سَيِّئَةً بَلْ هُوَ جَائِزٌ لَا بَأْسَ عَلَى مَنْ يَفْعَلُهُ
قُلْتُ الْقَوْلُ الرَّاجِحُ عِنْدِي أَنَّ رَفْعَ الْيَدَيْنِ فِي الدُّعَاءِ بَعْدَ الصَّلَاةِ جَائِزٌ لَوْ فَعَلَهُ أَحَدٌ لَا بَأْسَ عَلَيْهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ
-“মোনাজাতে হাত উঠানোর ব্যাপক অর্থবোধক হাদিস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন এবং বলেন, নিশ্চয় ফরজ নামাজের পরে দোয়া করা মুস্তাহাব, এ বিষয়ে হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা রাসূল (ﷺ) থেকে প্রমাণিত আছে, তিনি ফরজ নামাজের পরে দোয়া করেছেন, আর দোয়ায় হাত উঠানো হল দোয়ার আদব। নিশ্চয় তিনি নবী করিম (ﷺ) থেকে প্রচুর প্রমাণ পেশ করেন যে, তিনি দোয়ার সময় দুই হাঁত তুলেছেন। অপরদিকে ফরজ নামাজের পরে দোয়ায় হাত উঠানোর নিষেধাজ্ঞা নেই, বরং একাধিক দুর্বল হাদিস দ্বারা ফরজ নামাজের পরে হাত উঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। অত:পর বলেন, উল্লেখিত সকল বিষয় হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হওয়া এবং এ ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায়, ফরজ নামাজের পর হাত উঠিয়ে দোয়া করা বিদয়াত হবেনা। বরং এটা জায়েয এবং এরূপ আমল করলে কোন অসুবিধা হবেনা।”
আমি (মুবারকপুরী) বলি: আমার নিকট গ্রহণযোগ্য মত হল, নামাজের পরে দুই হাত উঠিয়ে দোয়া করা জায়েয হবে এবং কেউ এরূপ আমল করলে আল্লাহ চাহেতু কোন অসুবিধা হবেনা।”(মুবারকপুরী: তুহফাতুল আহওয়াজী, ২য় খন্ড, ১৭২ পৃষ্টা, ৩০০ নং হাদিসের ব্যাখ্যায়;)
লক্ষ্য করুন প্রিয় পাঠক! মাওলানা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী সাহেব লা-মাজহাবীদের বড় আলিম ও শায়েখ হওয়া স্বস্তে¡ও তারা এই শায়েখের ফাতওয়া মানেনা। অথচ তিনি ফরজ নামাজের পর দোয়া করার বিষয়টি হাদিস থেকে প্রমাণ করেছেন ও জায়েয বলেছেন।