❏ জানাযাই দোয়া, তাহলে দোয়ার পরে আবার কেন দোয়া করব?
উত্তর: জানাযার নামাজ দোয়া নয়, বরং জানাযার নামাজের ভিতর দোয়া রয়েছে। নদীর ভিতর পানি আছে তাই বলে নদীর নাম পানি নয়। জানাযার নামাজ যদি দোয়া হয় তাহলে ‘জানাযার নামাজ’ কেন বলেন? কিংবা নিয়ত করার সময় কেন বলেন
أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ صَلَاةِ الْجِنَازَةِ
(আরবায়া তাকবিরাতিন ছালাতিল জানাযাতি)?
পবিত্র কুরআনে জানাযার নামাজকে ‘সালাত’ বলেই আখ্যায়িত করা হয়েছে, যেমন:
وَلا تُصَلِّ عَلى أَحَدٍ مِنْهُمْ
-“আপনি কখনো তাদের (মোনাফেকদের) উপর (জানাযার) নামাজ পড়বেন না।” (সূরা ত্বওবাহ: ৮৪ নং আয়াত)।
এই আয়াতে বলা হয়েছে تُصَلِّ (লাতুছাল্লি) নামাজ পড়বেন না। যদি জানাযা নামাজ না হয়ে দোয়া হতো তাহলে বলা হতো تَدَعُوا (তাদ্উ)। সুতরাং আল্লাহর দৃষ্টিতে জানাযা হলো ‘নামাজ’ কিন্তু ওহাবীদের দৃষ্টিতে দোয়া।
হাদিস শরীফেও রাসূলে পাক (ﷺ) জানাযাকে সালাত বলেছেন। যেমন:
নিচের হাদিসটি লক্ষ্য করুন,
إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى الْمَيِّتِ -“যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির উপর সালাত পড়বে।” এখানে প্রিয় নবীজি (ﷺ) স্পষ্টভাবেই জানাযাকে সালাত বা নামাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বিশ্ব বিখ্যাত মুজতাহিদ্, ইমাম বুখারী (رحمة الله عليه) তাঁর কিতাবে বলেন: صَلَاة الْجنَازَةِ (ছালাতুল জানাযা) এখানে বলা হয়েছে জানাযার ছালাত কিন্তু বলা হয়নি যে, دعاء الجنازة (দোয়াউল জানাযা) বা জানাযার দোয়া।
(ইমাম আইনী: উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, জুযে ছানী, ১২২ পৃঃ;)
শারিহে বুখারী ইমাম বদরুদ্দিন আইনী হানাফী (رحمة الله عليه) বলেন,
وَقَالَ الْكرْمَانِي: غَرَض البُخَارِيّ بَيَان جَوَاز إِطْلَاق الصَّلَاة على صَلَاة الْجِنَازَة، وَكَونهَا مَشْرُوعَة، وَإِن لم تكن ذَات الرُّكُوع وَالسُّجُود فاستدل عَلَيْهِ تَارَة بِإِطْلَاق اسْم الصَّلَاة عَلَيْهِ، والآمر بهَا.
অর্থাৎ, আল্লামা কিরমানী (رحمة الله عليه) বলেন: ইমাম বুখারী (رحمة الله عليه) অত্র অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিস সমূহ দ্বারা প্রমাণ করেন যে, صَلَاة الْجِنَازَة (ছালাতুল জানাযাকে) নবী পাক (ﷺ) সালাত বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও ইহাতে রুকু-সিজদা নেই। অত:পর ইহাকে নামাজ প্রমাণ করার জন্য নবী করিম (ﷺ) সাহাবীদেরকে বলেছেন: “নামাজ পড়”।(ইমাম আয়নী শরহে বুখারী, ৮ম খন্ড, ১২২ পৃঃ;)
জানাযার নামাজের নিয়ত পাঠের ব্যাপারে ফাতওয়ার কিতাবে এভাবে রয়েছে,
نية صلاة الجنازة ان يقول اللهم انى نويت ان يصلى لك
-“হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যে নামাজ পড়ব নিয়ত করেছি।”(ফাতওয়ায়ে ছেরাজিয়া, ২২ পৃঃ;)
অতএব, জানাযার নামাজ শুধু দোয়া নয় বরং ইহা একটি নামাজ। সকল ফকিহ্গণ এ ব্যাপারে একমত। পবিত্র কুরআনের জানাযাকে সালাত বা নামাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যাঁ জানাযার ভিতরে মায়্যেতের জন্যে দোয়া আছে তাই বলে পুরো নামাজটাই দোয়া নয়। আপনাদের উল্লিখিত হাদিস গুলো দ্বায়িফ।
উত্তর: আমাদের উল্লিখিত সব হাদিস দ্বায়িফ নয়, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবেনা। এখানে ছিহা ছিত্তার কিতাবের অনেক হাদিস রয়েছে যেগুলো সহীহ্ সনদের। এখানে সহীহ্ মুসলীম শরীফের হাদিসও রয়েছে, বলুন! মুসলীম শরীফের হাদিস কি দ্বায়িফ? যদি সব গুলো দ্বায়িফও হয় (যদিও সবগুলো দ্বায়িফ নয়) তার পরও ইহার উপর আমল করা যাবে, কারণ:-
وَالضَّعِيفُ يُعْمَلُ بِهِ فِي فَضَائِلِ الْأَعْمَالِ اتِّفَاقًا
-“সর্বসম্মতিক্রমে ফাজায়েলের ক্ষেত্রে দ্বায়িফ হাদিসের উপর আমল জায়েয।” (মোল্লা আলী: মওজুয়াতুল কবীর, ১০৮ পৃঃ;)
তাফছিরে রুহুল বয়ানে উল্লেখ আছে:
قد صح عن العلماء تجويز الاخذ بالحديث الضعيف فى العمليات
-“আলিমগণের পক্ষ হতে ইহা সহীহ্ যে, আমলের ক্ষেত্রে দ্বায়িফ হাদিস গ্রহণ করা জায়েয।”
(আল্লামা ইসমাঈল হাক্বী: তাফছিরে রুহুল বয়ান, ৭ম খন্ড, ২৬৩ পৃঃ;)
ইমাম কামালুদ্দিন ইবনুল হুমাম (رحمة الله عليه) বলেছেন,
الضَّعِيفُ غَيْرُ الْمَوْضُوعِ يُعْمَلُ بِهِ فِي فَضَائِلِ الْأَعْمَالِ، -“যা মওজু নয় এমন দ্বায়িফ হাদিসের উপর আমল করা জায়েয।” (ফাতহুল কাদীর)।
হানাফী মাজহাবের ইমামদের অভিমত,
قَالَ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَزْمٍ: جَمِيعُ الْحَنَفِيَّةِ مُجْمِعُونَ عَلَى أَنَّ مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّ ضَعِيفَ الْحَدِيثِ أَوْلَى عِنْدَهُ مِنَ الْقِيَاسِ وَالرَّأْيِ.
-“আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেছেন: সকল হানাফীরা ঐক্যমত পোষন করেছেন যে, ইমামে আজম আবু হানিফা (رحمة الله عليه) এর মাজহাব হল: নিশ্চয় দ্বায়িফ হাদিস তার কাছে কিয়াস ও রায় হতেও উত্তম।”
(ইমাম যাহাবী: তারিখুল ইসলাম, ৩য় খন্ড, ৯৯০ পৃঃ ৪৪৫ নং রাবীর ব্যাখ্যায়;)
উছুলে হাদিসের আইন অনুযায়ী কয়েকটি দ্বায়িফ হাদিস একত্রে ক্বাবী বা শক্তিশালী হয়ে যায়। তাই জানাযার পর দোয়া করার ব্যাপারে সব গুলো হাদিস যদি দ্বায়িফও হয় (যদি সব দ্বায়িফ নয়) তারপরও এগুলোর উপর আমল করা জায়েয। আসল কথা হলো হাদিস-দলিলের কোন অভাব নেই কিন্তু ওহাবীরা মানবেনা সেটাই হলো মূল কথা।
হানাফী মাজহাবে জানাযার পরে দোয়া করা নিষেধ। কেননা ফেকাহ’র কিতাবে আছে,
ولا يقوم الرجل بالدعاء بعد صلاة الجنازة؛ لأنه قد دعا مرة
-“জানাযার নামাজের পরে দোয়ার জন্য দাঁড়াবেনা, কেননা তার জন্য একবার দোয়া করা হয়েছে।”(মুহিতুল বুরহানী, ২য় খন্ড, ২০৫ পৃঃ;)
আল্লামা ইমাম মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله عليه) বলেছেন,
وَلَا يَدْعُو لِلْمَيِّتِ بَعْدَ صَلَاةِ الْجَنَازَةِ لِأَنَّهُ يُشْبِهُ الزِّيَادَةَ فِي صَلَاةِ الْجَنَازَةِ.
“জানাযার পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেনা, কেননা এতে জানাযার সাথে অতিরিক্ত সাদৃশ্য বুঝায়।” (মেরকাত)।
উল্লেখিত এবারত গুলো দ্বারা বুঝা যায়, জানাযার পরে দোয়া করা যাবেনা। তাই হানাফীদের জানাযার পরে দোয়া জায়েয নয়।
জবাব: এখানে প্রথমত, আল্লামা বুরহান উদ্দিন (رحمة الله عليه) জানাযার পর দোয়া না করার ফাতওয়া রাসূলে পাক (ﷺ)’র হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় আমলযোগ্য নয়। কেননা
হানাফী ফোকাহাগণ বলেছেন,
قَالَ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَزْمٍ: جَمِيعُ الْحَنَفِيَّةِ مُجْمِعُونَ عَلَى أَنَّ مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّ ضَعِيفَ الْحَدِيثِ أَوْلَى عِنْدَهُ مِنَ الْقِيَاسِ وَالرَّأْيِ.
-“আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেছেন: সকল হানাফীরা ঐক্যমত পোষন করেছেন যে, ইমামে আজম আবু হানিফা (رحمة الله عليه) এর মাজহাব হল: নিশ্চয় দ্বায়িফ হাদিস তার কাছে কিয়াস ও রায় হতেও উত্তম।”
(ইমাম যাহাবী: তারিখুল ইসলাম, ৩য় খন্ড, ৯৯০ পৃঃ ৪৪৫ নং রাবীর ব্যাখ্যায়;)
দ্বিতীয়ত, একবার দোয়া করলে দ্বিতীয়বার দোয়া করা শরিয়াতে কোথাও নিষেধ নেই। বরং সহীহ্ হাদিসে আছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَمِّهِ الْعَبَّاسِ: يَا عَمِّ أَكْثِرِ الدُّعَاءَ
-“হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর চাচাকে বললেন: ওহে চাচা! আপনি অধিক পরিমাণে দোয়া করুন।”
(ইমাম তাবারানী: মু’জামুল কবীর, হাদিস নং ১১৯০৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস নং ১৯৩৯; বায়হাক্বী: দাওয়াতুল কবীর, হাদিস নং ২৮১; ইমাম মুনজেরী: আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব, ১ম খন্ড; মেসকাত শরীফ, ১৯৬ পৃঃ; মেরকাত শরহে মেসকাত, ৫ম খন্ড, ১২৫ পৃঃ;)
এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম হাকেম নিছাপুরী (رحمة الله عليه) বলেন,
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِيِّ -
“ইমাম বুখারীর শর্তে এই হাদিস সহীহ্।”
অতএব, বেশী বেশী দোয়া করার পিছনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে রেজামন্দী নিহিত। তাই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অধিকহারে দোয়া করা উচিৎ। যেমন:
আরেক হাদিসে আছে,
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حِبَّانَ الْأَنْصَارِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْجَرْجَرَائِيُّ، ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، ثنا أَبُو الْمَلِيحِ الْهُذَلِيُّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ لَا يَدْعُو اللَّهَ يَغْضَبْ عَلَيْهِ،
-“হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, আল্লাহর হাবীব (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দোয়া করেনা তার উপর আল্লাহ রাগ করেন।”
(ইমাম বুখারী: আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৬৫৮; তিরমিজি শরীফ, হাদিস নং ৩৩৭৩; মেসকাত শরীফ, ১৯৫ পৃঃ; সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, ২৭১ পৃঃ; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ৯৭০১; মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ৯৪২৫; ইমাম তাবারানী: আদ-দোয়া, হাদিস নং ২৩; ইমাম তাবারানী: মু’জামুল আওছাত, হাদিস নং ২৪৩১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস নং ১৮০৬; ইমাম বায়হাক্বী: দাওয়াতুল কবীর, হাদিস নং ২২; ইমাম বায়হাক্বী: শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং ১০৬৫; মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদিস নং ৬৬৫৫; মেরকাত শরহে মেসকাত, ৫ম খন্ড, ১২৩ পৃঃ;)
এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম হাকেম (رحمة الله عليه) বলেন, هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ
-“এই হাদিসের সনদ সহীহ্।”
তাই আল্লাহর গোস্বার কূপানল থেকে বাঁচতে হলে বেশী বেশী দোয়া করা উচিৎ। এতেই আল্লাহর রহমত তথা করুণা লাভ করা সম্ভব। অতএব, একবার দোয়া করলে দ্বিতীয়বার দোয়া করা যাবেনা এরূপ ফাতওয়া আমলযোগ্য নয়। কারণ এই ফাতওয়া মানতে গেলে স্বয়ং রাসূল (ﷺ)’র কথা অমান্য করতে হবে।
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله عليه) এর ফাতওয়া দ্বারা বুঝা যায়, জানাযার নামাজের মত কাতারবন্দী হয়ে দোয়া করা নামাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা তিনি বলেছেন:
لِأَنَّهُ يُشْبِهُ الزِّيَادَةَ فِي صَلَاةِ الْجَنَازَةِ. -
“কেননা ইহা জানাযার সাথে অতিরিক্ত সাদৃশ্য বুঝায়।” তাই এরূপ কাতারবন্দী হয়ে দোয়া করা যাবেনা বরং কাতার ভেঙ্গে দোয়া করলে তখন আর নামাজের সাথে কোন সাদৃশ্য থাকবেনা। ফলে একদিকে এই ফাতওয়ার উপর আমল করা হবে অপরদিকে রাসল (ﷺ)’র হাদিসের উপর আমল করা হবে। হানাফী মাজহাবের কোন কোন ইমামগণ জানাযার সালামের পরেও দোয়া করা জায়েয বলেছেন। যেমন নিচের এবারতটি লক্ষ্য করুন,
لِأَنَّهُ لَا يَدْعُو بَعْدَ التَّسْلِيمِ كَمَا فِي الْخُلَاصَةِ وَعَنْ الْفَضْلِيِّ لَا بَأْسَ بِهِ،
-“কেননা (জানাযার) সালামের পরে দোয়া করবেনা যেমনটা খুলাছার মধ্যে রয়েছে। ইমাম ফাদ্বলী (رحمة الله عليه) হতে বর্ণিত রয়েছে, (জানাযার পর দোয়া করা) কোন অসুবিধা নেই।”
(ফাতওয়া বাহরুর রায়েক্ব, ২য় খন্ড, ১৯৭ পৃঃ দারুল কুতুব ইসলামী;)
এখানে ইমামুল জালিল আল-ফাদ্বলী হানাফী (والإمام الجليل الفضلي) (رحمة الله عليه) পরিস্কার জানাযার পর দোয়া করা জায়েয বলেছেন। যেমনটা ইমাম আজম আবু হানিফা (رحمة الله عليه) ও ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (رحمة الله عليه) মুত্বলকান দাফনের পূর্বে তথা জানাযার পূর্বে বা পরে দোয়া করার অনুমতি প্রদান করেছেন।
সর্বোপরি যেহেতু জানাযার পরে স্বয়ং রাসূল (ﷺ) ও সাহাবায়ে কেরাম দোয়া করেছেন বলে একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায়, সেহেতু কোন ফকিহ্ এর ফাতওয়া দ্বারা রাসূল (ﷺ) ও সাহাবায়ে কেরামের আমলকে পরিত্যাগ করা যাবেনা। এমনকি ইমামে আজম আবু হানিফা (رضي الله عنه) থেকে দাফনের পুর্বে দোয়া করা মত্বলকান নির্দেশ রয়েছে, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
❏ আমাদের কিছু প্রশ্ন
আমাদের কিছু প্রশ্ন
১. জানাযার নামাজ হল ‘ফরজে কেফায়া’ এতে কোন দ্বিমত নেই। বলুন, দোয়া করা কি ফরজে কেয়াফা?
২. জানাযার জন্য ওজু করা শর্ত, কিন্তু দোয়ার জন্য ওজু করা কি শর্ত?
৩. জানাযার জন্য কেবলা শর্ত, কিন্তু দোয়া’ত যে কোন দিকে ফিরে করা যায়, তাই নয় কি?
৪. জানাযার জন্য জামাত শর্ত, কিন্তু দোয়া একা একাও করা যায়, তাই নয় কি?
৫. জানাযার জন্য কাতার বন্দী হওয়া শর্ত, কিন্তু দোয়ার জন্য কাতার বন্দী হওয়া শর্ত আছে কি?
৬. জানাযার মাঝে তাকবীরে তাহরিমা আছে, কিন্তু দোয়ায় কি তাকবীরে তাহরিমা আছে কি?
৭. জানাযার জন্য ‘কাপড় পাক, জায়গা পাক, ছতর ঢাকা, কিয়াম করা ইত্যাদি শর্ত, কিন্তু দোয়ার বেলায় এগুলো শর্ত কি?
৮. জানাযার সুন্নাত ৪টি যথা: (ক). ইমাম মৃত ব্যক্তির বক্ষ বরাবর দাঁড়াবেন, (খ). প্রথম তাকবীরের পর ছানা বলা, (গ). দ্বিতীয় তাকবীরের পর দূরুদ পাঠ করা, (ঘ). তৃতীয় তাকবীরের পর মৃত ব্যক্তির জন্যে দোয়া করা।
বলুন! দোয়ার জন্যে এরূপ শর্ত আছে কি?