ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অস্বীকার করতে গিয়ে কিছু মুরতাদ সম্প্রদায় বলে থাকে ‘দুই ঈদ ব্যতীত আর কোন ঈদ নাই নাউযুবিল্লাহ !!
দুই ঈদ ব্যাতীত ঈদ নাই। এই কথার মত হাস্যকর কথা আমি কমই শুনেছি। যারা এই কথা বলে তাদের জীবন কতটা যে নিরানন্দ আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। আল্লাহ পাক হয়তো তাদের জীবন থেকে সকল সুখ শান্তি উঠিয়ে নিয়েছেন তাদের বেয়াদবির কারনে। যারা বলে দুই ঈদ ব্যতীত আর কোন ঈদ নাই,তারা কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফ অস্বীকারকারী আর কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফ অস্বীকারকারীরা কাফির। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, “যে আমার নামে মনগড়া মিথ্যা কথা বললোসে দুনিয়া থাকতেই তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারন করে নিলো। (বুখারী শরীফ ১১০শরীয়তে অসংখ্য ঈদ থাকার পরও যারা বলে দুই ঈদ ব্যাতীত ঈদ নাই তারা হাদীস শরীফ অস্বীকারকারীনজীজীর প্রতি মিথ্যারোপ কারী। কারন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই দুই ছাড়া  আরো অনেক ঈদের কথা উল্লেখ করেছেন।

পবিত্র জুমুয়ার দিন মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন। পবিত্র সহীহ হাদীস শরীফের মধ্যে ইরশাদ হয়েছেঃ
عن حضرت عبيد بن السباق رضي الله عنه مرسلاقال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم في جمعةمن الجمع يا معشر المسلمين ان هذا يوم جعله اللهعيدا
অর্থ : হযরত ওবায়িদ বিন সাব্বাক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুরসাল সূত্রে বর্ননা করেনহাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক জুমুয়ার দিন বলেনহে মুসলমান সম্প্রদায় ! এটি এমন একটি দিন যাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈদ নির্ধারণ করেছেন !” (ইবনে মাজাহ : হাদীস নম্বর ১১৯৮মুয়াত্তা মালিক- কিতাবুত ত্বহারাত: হাদীস নম্বর ১৪৪বায়হাক্বী : হাদীস ১৩০৩মায়ারিফুল সুনান ওয়াল আছার বায়হাক্বী: হাদীস ১৮০২মুসনাদে শাফেয়ী: হাদীস ২৬৮মুজামুল আওসাত তাবরানী ৩৪৩৩মিশকাত শরীফ)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ هَذَا يَوْمُ عِيدٍ جَعَلَهُ اللَّهُ لِلْمُسْلِمِينَ فَمَنْ جَاءَ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ وَإِنْ كَانَ طِيبٌ فَلْيَمَسَّ مِنْهُ وَعَلَيْكُمْ بِالسِّوَاكِ
অর্থহযরত উবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতহাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন,নিশ্চয় আল্লাহ এই দিনকে মুসলিমদের ঈদের দিনরূপে নির্ধারণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে আসবে সে যেন গোসল করে এবং সুগন্ধি থাকলে তা শরীরে লাগায়। আর মিসওয়াক করাও তোমাদের কর্তব্য। (সুনানে ইবনে মাজাহ ১০৯৮আল মুজামুলি আওসাত তাবরানী ৭৩৫৫)
কতবড় ঈদের দিন ও শ্রেষ্ঠ দিন জানেন কি ?দেখুন হাদীস শরীফে কি বলা হয়েছে-
قال النبى صلى الله عليه وسلم ان يوم الـجمعة سيدالايام واعظمها عند الله وهو اعظم عند الله من يومالاضحى ويوم الفطر

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেনজুমুআর দিন সকল দিনের সর্দার এবং সকল দিন অপেক্ষা আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। এটি ঈদুল আযহার দিন ও ঈদুল ফিতরের দিন অপেক্ষাও আল্লাহ পাক-উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ : হাদীস নম্বর ১১৩৭মুজামুল কবীর তাবরানী ৪৫১১,শুয়াইবুল ঈমান বায়হাকী : হাদীস ২৯৭৩,মিশকাত শরীফ)

এবার দেখূন কেন জুমুয়ার দিন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার চাইতে বেশি শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত: 

ان من افضل ايامكم يوم الـجمعة فيه خلق ادم وفيهقبض
অর্থ: তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এ দিনেই তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন। (নাসায়ী শরীফ- কিতাবুল জুমুয়া: হাদীস ১৩৮৫মুসলিম শরীফ- কিতাবুল জুমুয়া: হাদীস ৮৫৫তিরমিযী :হাদীস ৪৯১,মুসনাদে আহমদ : ৮৯৫৪হাদীস নম্বর ৮৯ ইবনে মাজাহ : হাদীস ১৭০৫সুনানে আবু দাউদ – কিতাবুস সালাত: হাদীস ১০৪৭,ইবনে খুযায়মা: হাদীস ১৬৩২)

হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি,দুনিয়ায় আগমনবিছাল শরীফ এর জন্য পবিত্র জুমুয়ার দিন এত শ্রেষ্ঠ। এতটাই শ্রেষ্ঠ যে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার চাইতেও বেশি শ্রেষ্ঠ,এবং ঈদের দিন।

সহীহ হাদীস শরীফে আছে আরাফার দিন ঈদের দিনঃ

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، قَالَ قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ ‏:‏ ‏(‏ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا ‏)‏ وَعِنْدَهُ يَهُودِيٌّ فَقَالَ لَوْ أُنْزِلَتْ هَذِهِ عَلَيْنَا لاَتَّخَذْنَا يَوْمَهَا عِيدًا ‏.‏ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَإِنَّهَا نَزَلَتْ فِي يَوْمِ عِيدٍ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ وَيَوْمِ عَرَفَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ صَحِيحٌ

অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্নিত আছে যেতিনি একদা – ”আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ন করে দিলাম ” ( সূরা মায়েদা ৩) এ আয়াত শরীফ খানা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন ! তখন উনার নিকট এক ইহুদী ছিল সে বলে উঠলো,যদি এমন আয়াত শরীফ আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতোআমরা আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করতাম !’ এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেনএ আয়াত শরীফ সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন একসাথে দুই ঈদ ছিলো – (১) জুমুয়ার দিন এবং (২) আরাফার দিন !” (দলীলতিরমীযি শরীফ-কিতাবুত তাফসীর হাদীস ৩৩১৮)

حَدَّثَنِي أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - وَهُوَ ابْنُ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ، بْنِ شِهَابٍ أَنَّ الْيَهُودَ، قَالُوا لِعُمَرَ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ آيَةً لَوْ أُنْزِلَتْ فِينَا لاَتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ إِنِّي لأَعْلَمُ حَيْثُ أُنْزِلَتْ وَأَىَّ يَوْمٍ أُنْزِلَتْ وَأَيْنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَيْثُ أُنْزِلَتْ أُنْزِلَتْ بِعَرَفَةَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ
অর্থ : আবূ খায়সামা যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না রহমতুল্লাহি আলাইহি ... তারিক ইবনু শিহাব (রহমতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনইয়াহুদী লোকেরা হযরত উমার আলাইহিস সালাম উনাকে বললো, আপনারা এমন একটি আয়াত পাঠ করে থাকেন তা যদি আমাদের সম্পর্কে নাযিল হতোতবে এ দিনটিকে আমরা উৎসবের দিন হিসাবে গ্রহণ করতাম। হযরত উমার আলাইহিস সালাম বললেনআমি জানিঐ আয়াতটি কখন (কোথায়) ও কোন দিন নাযিল হয়েছিল। আর যখন তা নাযিল হয়েছিল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় কোথায় অবস্থান করছিলেন (তাও জানি)। আয়াতটি আরাফার দিন নাযিল হয়েছিলরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আরাফাতেই অবস্থান করছিলেন।” (মুসলিম শরীফ – কিতাবুত তাফসীর হাদীস ৭২৪৪,নাসাঈ শরীফ শরীফকিতাবুল হজ্জহাদীস ৩০০২মুসনাদে আহমদ ১৯০)

সহীহ হাদীস শরীফের মধ্যে আইয়ামে তাশরীকের দিন ঈদের দিনঃ
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلمقَالَ  " إِنَّ يَوْمَ عَرَفَةَ وَيَوْمَ النَّحْرِ وَأَيَّامَالتَّشْرِيقِعِيدُنَا أَهْلَ الإِسْلاَمِ
অর্থ: হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেনআরাফার দিন,নহর বা কুরবানীর দিন এবং আইয়্যামে তাশরীক (অর্থ্যাৎ ১১১২ ও ১৩ ই জিলহজ্জ) আমাদের মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন। (দলীল: নাসাঈ শরীফ কিতাবুল হজ্জ : হাদীস নম্বার ৩০০৪,আবু দাউদ – কিতাবুছ সিয়াম : হাদীস ২৪১৯,তিরমিযী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম: হাদীস ৭৭৩)

উক্ত হাদীস শরীফে জুমুয়ার দিনের সাথে সাথে আরাফার দিনকেও ঈদের দিন হিসাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে

হাদীস শরীফে আছে মুসলমানদের জন্য প্রতি মাসে চারদিন বা পাঁচদিন ঈদদের দিনঃ
لكل مؤمن في كل شهر اربعة اعياد اوخمسة اعياد
অর্থ : হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেনমুমিন মুসলমানদের প্রতি মাসে চারটি অথবা পাঁচটি ঈদ রয়েছে অর্থাৎ প্রতিমাসে চারটি অথবা পাঁচটি সোমবার শরীফ হয়ে থাকে’ কিফায়া শরহে হিদায়া ২য় খন্ড – বাবু ছালাতিল ঈদাইনহাশিয়ায়ে লখনবী আলাল হিদায়া )

রোজদারদের জন্য ইফতারের সময় ঈদের সময়ঃ
لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ
ٌঅর্থ : হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেনরোযাদারের জন্য দুটি ঈদ বা খুশি  একটি হলো তার প্রতিদিন ইফতারের সময় আর অন্যটি হলো মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতের সময় '” (দলীলবুখারী শরীফ – কিতাবুস সাওমমুসলিম শরীফ কিতাবুস সাওম : হাদীস ১১৫৩,মিশকাত শরীফ , সুনানে নাসাঈ :২২১৫রোজার অধ্যায়)

দেখুনউক্ত হাদীস শরীফে রোজাদার দের জন্য দুটি ঈদ বা খুশির কথা বলা হইছে একটা তার ইন্তেকালের পর আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতআর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইফতার করার সময়
ইফতিার দুই প্রকার 
(১) ইফতারে কুবরা।
(২) ইফতারে ছোগরা।

কুবরা হচ্ছেঈদুল ফিতর যা হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমানিত। আর ছুগরা হচ্ছেরোজাদার প্রতিদিন মাগরিবের সময় করে থাকেন
এটি প্রতিবছর ২৯ বা ৩০ দিন হয়ে থাকে। এছাড়া সুন্নত রোজা হিসাবে আরো রোজা রয়েছেযেমন-
মুহররম শরীফ মাসে ৯,১০ বা ১০,১১ তারিখ দুইটি রোজা এবং এর সাথে আরো ১ টি রাখা হয়মোটা ৩ টি
শাওয়াল মাসে ৬ টি রোজা রোজা
যিলহজ্জ শরীফ মাসে ১ হতে ৯ তারিখ পর্যন্ত ৯ টি রোজা
এবং বাকি ১১ মাসে ৩ করে সুন্নত রোজা মোট ৩৩ টি রোজা
এই রোজাদার দের প্রতিটি ইফতার হলো ঈদ। সুবহানাল্লাহ্!

আসুন আমারা মোট ঈদ সংখ্যা হিসাব করি 
বছরে ৫২ টি শুক্রবার + ৫২ টি সোমবার শরীফ + আরফার দিনআইয়ামে তাশরীক ৩ দিন+রমাদ্বান শরীফে ৩০ টি + বাকি ১২ মাসে ৩ করে ৩৪ টি + যিলহজ্জ মাসে ৯ টি + মুহররম মাসে ২ টি + পহেলা রজব ১ টি + ২৭ শে রজব ১টি + ১৫ শাবান ১ টি = (৫২+৫২+৩০+১++৩৩+৯+২+১+১)
১৮৪ টি ঈদ ! সুবহানাল্লাহ্ !
 সূতরাং হাদীস শরীফ থেকেই ১৮৪ টা ঈদ প্রমাণিত হলো।

বিশেষ কোন নিয়ামত নাযিলের দিন ঈদের দিন:
قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَاء تَكُونُ لَنَا عِيداً لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
অর্থঃ ঈসা ইবন মারিয়ম আলাইহিস সালামবললেন- হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করুন। এ দিন আমাদের জন্য ঈদ হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্যও তা হবে ঈদের দিন। (সূরা মায়িদা ১১৪)

শবে বরাত শরীফ হচ্ছে ফেরশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ঈদের দিন:
“লাইলাতুর বরাত ও লাইলাতুল কদর ফিরিশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ঈদের দিন”(গুনিয়াতুত ত্বলেবীণ ৩৬৫ পৃষ্ঠা)


দুইয়ের অধিক ঈদের কথা একসাথে হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে:
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وُهَيْبٍ الْغَزِّيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي السَّرِيِّ الْعَسْقَلانِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ رَاشِدٍ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو كَثِيرٍ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ: " زَيِّنُوا أَعْيَادَكُمْ بِالتَّكْبِيرِ
অর্থ: তোমরা তোমাদের ঈদগুলোকে তাকবীর ধ্বণী দ্বারা সৌন্দর্য্যন্ডিত কর (দলীল: মুজামুল আওছাত তাবরানী ৪৫০৯)

হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলোচ্য হাদীসে اعياد (আইয়াদ) শব্দ ব্যবহার করেছেন। আর اعياد (আইয়াদ) শব্দ ঈদعيد শব্দের বহুবচন। অর্থাৎ একটি ঈদকে আরবীতে বলা হয় عيد (ঈদ) দুটি হলেعيدان(ঈদাইনে) আর দুয়ের অধিক ঈদকে বলে اعياد(আইয়াদ) । সূতরাং হাদীস শরীফে আইয়াদ শব্দ দ্বারা প্রমানিত হলো দুই ঈদের বেশি ঈদ রয়েছে। অতএব হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ শব্দ চয়নই প্রমাণ করে ঈদ দুয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং অসংখ্য হতে পারে। 

এই সহীহ হাদীস শরীফ থেকেই দেখা গেলো,এক হাদীস শরীফেই তিনটা ঈদের কথা বলা হয়েছে। এখন বলুন কিভাবে বলা যায় দুই ঈদের বেশি ঈদ নাইএকমাত্র চরম স্তরের মূর্খ ছাড়া কেউ বলতে পারে না দুই ঈদের বাইরে ঈদ নাই।


অতএব প্রমানিত হলো যেশরীয়তে দুই ঈদ ব্যতীত আরো অনেক ঈদ আছে ! এসব গুলা ঈদ হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমানিত ! সুতরাং যারা বলেদুই ঈদ ব্যতীত আর ঈদ নাই তাদের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কুরআন শরীফ সুন্নাহ শরীফের খেলাফ ও কুফরীমূলক প্রমানিত হলো।
Top